Showing posts with label বাংলাদেশ. Show all posts
Showing posts with label বাংলাদেশ. Show all posts

Friday, November 4, 2022

‘আগামী বছরের জুনে কক্সবাজার যাবে ট্রেন’

‘আগামী বছরের জুনে কক্সবাজার যাবে ট্রেন’


 আগামী ২০২৩ সাল নাগাদ কক্সবাজার যাওয়া যাবে ট্রেনে করে। এ লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার। এ প্রকল্পের জন্য অর্থ সহায়তা দিয়েছে দাতা সংস্থা এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি)।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন, এই রেললাইনের ৫০ কিলোমিটারের বেশি এখন দৃশ্যমান। এই প্রকল্পের প্রায় ৭৬ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি কাজ আগামী ২০২৩ সাল নাগাদ সম্পন্ন হবে। এই রেলপথ নির্মিত হলে তা দেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও পর্যটন উন্নয়নকে আরও একধাপ এগিয়ে নিবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১১ সালে দোহাজারি থেকে রামু পর্যন্ত ৮৮ কিলোমিটার, রামু থেকে কক্সবাজার ১২ কিলোমিটার ও রামু থেকে ঘুমধুম পর্যন্ত মিটারগেজ রেলপথ নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। প্রকল্পটি বর্তমানে নির্মাণাধীন। ২০২৩ সালের জুন নাগাদ নির্মাণকাজ শেষ হলে জুলাই কিংবা আগস্টে ট্রেন চলাচল শুরু হতে পারে।

মোট ১০০ কিলোমিটারের এই রেলপথে মোট আটটি স্টেশন থাকছে। এই গুলো হলো কক্সবাজার সদর, ডুলাহাজারা, সাতকানিয়া, চকরিয়া, রামু, উখিয়া, ঈদগাঁও ও লোহাগড়া। সাঙ্গু, মাতামুহুরি ও বাঁকখালী নদীর ওপর তিনটি বড় সেতুও নির্মাণ করা হচ্ছে। সাতকানিয়ার কেঁওচিয়ায় ফ্লাইওভার, রামু-কক্সবাজারে দুটি হাইওয়ে ক্রসিং, বন্যপ্রাণীর চলাচলে ওভারপাস ও তিনটি আন্ডারপাস এই প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে। এ ছাড়া ১৪৪টি লেভেল ক্রসিং, ৪৩টি ছোট সেতু ও ২০১টি কালভার্টও নির্মাণ করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক মফিজুর রহমান বলেন, প্রকল্পের ৫০ কিলোমিটারের বেশি এখন দৃশ্যমান। অধিকাংশ ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণও প্রায় শেষ। বাকিগুলো আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যেই শেষ হবে। প্রত্যাশা করছি, ২০২৩ সালের জুন নাগাদ কাজ শেষ করতে পারবো।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, কর্ণফুলী নদীর ওপর পদ্মা সেতুর আদলে আরেকটি নতুন রেলসেতু নির্মাণ করা হবে। এর ব্যয় ধরা হয়েছে ছয় হাজার ৩৪১ কোটি টাকা। কোরিয়ান সরকার এই রেলসেতুর সব ব্যয় বহন করবে। শিগগিরই এই সেতুর নির্মাণকাজ উদ্বোধন করা হবে।

এইচএসএসি পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা

এইচএসএসি পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা

 


সারা দেশে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা রোববার (৬ নভেম্বর) থেকে শুরু হবে। এ বছর প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজবমুক্ত, নকলমুক্ত, সুষ্ঠু ও ইতিবাচক পরিবেশে পরীক্ষা সম্পন্ন করার লক্ষ্যে নির্দেশনা দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

শনিবার (৫ নভেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ দফতর থেকে এ নির্দেশনা জানানো হয়।

নির্দেশনায় জানানো হয়, পরীক্ষা শুরুর কমপক্ষে ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই পরীক্ষার হলে প্রবেশ করতে হবে। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছাড়া পরীক্ষা কেন্দ্রে অন্য কেউ মোবাইল ফোন বা অননুমোদিত ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করতে পারবেন না।

পরীক্ষা শুরু হওয়ার ২৫ মিনিট আগে প্রশ্নের সেট কোড ঘোষণা করা হবে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজবসৃষ্টিকারী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কোনো প্রতিষ্ঠান, প্রতিষ্ঠান প্রধান, শিক্ষক কোনোভাবে পাবলিক পরীক্ষায় বেআইনি কাজ করলে সে প্রতিষ্ঠান, প্রতিষ্ঠান-প্রধান ও শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং প্রয়োজনে পরীক্ষা কেন্দ্র বাতিল করা হবে।

পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি (যেমন পরীক্ষার্থী, কক্ষ প্রত্যবেক্ষক, মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্র পরিদর্শন টিম, বোর্ডের কেন্দ্র পরিদর্শন টিম, জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের পরিদর্শন টিম, নিরাপত্তার দায়িত্ব নিয়োজিত আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য) ছাড়া অন্য কেউই কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবে না।

প্রশ্নপত্র বিতরণের আগে সময়সূচি অনুযায়ী বিষয়, বিষয় কোড, পত্র ও সেট কোড নিশ্চিত হয়ে কক্ষ পর্যবেক্ষকরা বিতরণ করবেন।

উল্লেখ্য, করোনা সংক্রমণ ও বন্যার কারণে সরকার প্রায় সাত মাস পর এইচএসসি পরীক্ষা নিচ্ছে সরকার। এ বছর পরীক্ষায় মোট ১২ লাখ ৩ হাজার ৪৭ পরীক্ষার্থী অংশ নেবে। ২০২১ সালে এ সংখ্যা ছিল ১৩ লাখ ৯৯ হাজার ৬৯০। গত বছরের তুলনায় এবার পরীক্ষার্থী কমেছে ১ লাখ ৯৬ হাজার ২৮৩ জন।

সংশোধিত ও পুনঃবিন্যাসকৃত সিলেবাসে দুটি আবশ্যিক, তিনটি নৈর্বাচনিক এবং চতুর্থ বিষয়ে পরীক্ষা হবে। বিজ্ঞান বিভাগের পরীক্ষার্থীদের এমসিকিউ ২৫টি প্রশ্নের ১৫টির উত্তর দিতে হবে; সময় থাকবে ২০ মিনিট। তত্ত্বীয় পরীক্ষায় আটটি প্রশ্নের মধ্যে তিনটির উত্তর দিতে হবে; সময় ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিট।

অন্যদিকে মানবিক ও ব্যবসায় শাখায় এমসিকিউ ৩০টির মধ্যে ১৫টির উত্তর দিতে হবে; সময় থাকবে ২০ মিনিট। তত্ত্বীয় পরীক্ষায় ১১টি প্রশ্নের মধ্যে চারটির উত্তর দিতে হবে; সময় ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিট।

ঢাকা মহানগরীর কেন্দ্রগুলোতে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে পরীক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কিছু নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। বৃহস্পতিবার (৩ নভেম্বর) ডিএমপি কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে পরীক্ষা কেন্দ্রসমূহের ২০০ গজের মধ্যে পরীক্ষার্থী ছাড়া জনসাধারণের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

Wednesday, November 2, 2022

বেসরকারি খাতের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান এফবিসিসিআই সভাপতির

বেসরকারি খাতের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান এফবিসিসিআই সভাপতির

 



বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট ও দেশের রিজার্ভ ও বাজেট সীমাবদ্ধতার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারি-বেসরকারি অংশীদারীত্বে (পিপিপি) প্রকল্প গ্রহণ ছাড়া কোনো উপায় নেই। তাই পিপিপির উন্নয়নে প্রয়োজনে আইনে পরিবর্তন আনা হবে। 

শনিবার (২৯ অক্টোবর) এফবিসিসিসিআই আয়োজিত ‘ভিশন-২০৪১ অর্জনে পিপিপি’র ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে এসব মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপদেষ্টা বলেন, ‘বর্তমান আইনে পিপিপির প্রক্রিয়া দ্রুত করা সম্ভব কীনা, তা যাচাই করে দেখতে হবে। যদি দরকার হয়, আইনে পরিবর্তন আনতে হবে। কিন্তু এই পথেই যেতেই হবে।’ 

বিদ্যুৎ খাতে পিপিপি সফল হয়েছে মন্তব্য করে সালমান এফ রহমান বলেন, ২০০৯ সাল আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিলো মাত্র ৪৫০০ মেগাওয়াট। কিন্তু আইন পরিবর্তন করে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে বেসরকারি খাতের মোট ৫৪ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। বিদ্যুৎখাতের সফল পিপিপির কারণেই বর্তমান অর্থনৈতিক অগ্রগতি এসেছে। 

এসময় পিপিপিকে দ্রুত করতে, এর আওতায় দেয়া প্রকল্প প্রস্তাবে অর্থায়ন সক্ষমতার প্রমাণাদি দলিল সংযুক্ত থাকলে সেসব প্রকল্পকে ফাস্ট ট্রাক প্রকল্প হিসেবে চিহ্নিত করা যেতে পারে বলে পরামর্শ দেন উপদেষ্টা। 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম বলেন, ‘পিপিপির উন্নয়ন ছাড়া এসডিজি বাস্তবায়ন সম্ভব হবেনা। কেননা এসডিজি অর্জনের জন্য পিপিপির মাধ্যমে প্রায় ৬ শতাংশ অর্থায়ন করতে হবে। এছাড়াও সরকারের অন্যান্য উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য সরকারের একার পক্ষে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ সম্ভব নয়। দেশে শক্তিশালী বেসরকারিখাত গড়ে উঠেছে। তাদেরকেও পিপিপির মাধ্যমেই উন্নয়ন কর্মকান্ডে সংশ্লিষ্ট করতে হবে।’

 অন্যদিকে আস্থাহীনতাকে পিপিপির উন্নয়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যা বলে মনে করেন বিশেষ অতিথি পিপিপি কর্তৃপক্ষের সিইও মোহাম্মদ ইব্রাহীম। সরকারের প্রতি বেসরকারি খাতকে অংশীদার হিসেবে দেখার মনোভাব তৈরি করার আহ্বান জানান তিনি। 

এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘২০৩১ ও ২০৪১ সাল নাগাদ বাংলাদেশের উন্নয়ন লক্ষ্যগুলো অর্জন করতে হলে অবকাঠামো খাতে ব্যাপক পরিবর্তন করতে হবে। উৎপাদনের গতি আনতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গতি দ্বিগুণ করা ও চট্টগ্রাম বন্দরের টেস্টিং সুবিধা বাড়াতে হবে। এসব ক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে। এছাড়াও সরকারি শিল্প কারখানায় হাজার হাজার একর অব্যবহৃত জমি শিল্প স্থাপন ও সরকারি কারখানার আধুনিকায়নে পিপিপি মডেল ব্যবহারের পরামর্শ দেন সভাপতি।’ 

তিনি বলেন, ‘দেশের অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। তাদেরকে সরকারের প্রকল্প অংশীদার করলে অর্থায়ন সহজ হবে। সরকারের চাপ কমবে।’ 

ভারতকে হারাতে বাংলাদেশের দরকার ১৮৫ রান

ভারতকে হারাতে বাংলাদেশের দরকার ১৮৫ রান



সুপার টুয়েলভের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ভারতের মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ। টস জিতে ভারতকে ব্যাটিংয়ে পাঠান বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। নির্ধারিত ২০ ওভারে তারা তুলেছে ১৮৪ রান। জিততে হলে বাংলাদেশের দরকার ১৮৫ রান। 

ব্যাটিংয়ে নেমে পাওয়ার-প্লেতে খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি ভারত। তৃতীয় ওভারে অধিনায়ক রোহিত শর্মাকে ফিরিয়ে প্রথম সাফল্য এনে দেন হাসান মাহমুদ। ৬ ওভারে ভারতের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩৭ রান। 

গত তিন ম্যাচের মতো এই ম্যাচেও তাসকিন দুর্দান্ত শুরু করেন। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারের মধ্যে তিনি ৩ ওভার করেন। প্রথম দুই ওভারে তিনি দেন মাত্র ১ রান। দ্বিতীয় ওভারে তার বলে জীবন পান রোহিত শর্মা। না হলে আগের তিন ম্যাচের মতো এদিনও বাংলাদেশকে শুরুর সফলতাটা তাসকিনই এনে দিতেন।

দীর্ঘদিন ধরে ফর্মে না থাকা লোকেশ রাহুল ফর্মে ফিরেছেন এ ম্যাচ দিয়ে। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ৩১ বলেই তুলে নিয়েছেন ফিফটি। অর্ধশতক পূর্ণ করার ঠিক পরেই তাকে ফেরান সাকিব। মুস্তাফিজের হাতে সহজ ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান তিনি। 

ইনিংসের ১২তম ওভারে সাকিব একবার সূর্যকে ফেরানোর সুযোগ তৈরি করেছিলেন। তার বলে সুইপ করতে গিয়ে সূর্যর ব্যাটে টপ-এজড হয়ে বলটা উঠে গিয়েছিল আকাশে। তবে মুস্তাফিজ ক্যাচটা তালুবন্দি করতে পারেননি। তবে ২ ওভার পরে সেই সূর্যকে ফিরিয়েছেন সাকিবই, ৩০ রানে। 

মুস্তাফিজ-হাসানদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে শেষদিকে রানের গতি কিছুটা কমে। হার্দিক পান্ডিয়া ও অক্ষর প্যাটেলকে দুই অঙ্ক ছোঁয়ার আগেই ফিরিয়েছেন হাসান মাহমুদ আর দিনেশ কার্তিক ফিরেছেন রান আউট হয়ে। 

বেশকিছু উইকেট হারিয়ে যখন কিছুটা ছন্দহারা ভারত তখন এক প্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যান কোহলি। ৪৪ বলে ৬৪ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে দলকে এনে দেন ১৮৪ রানের বড় সংগ্রহ।     

বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৩টি উইকেট নিয়েছেন হাসান মাহমুদ। দুটি উইকেট গেছে অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের ঝুলিতে। 

মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করতে বিসিএস কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান

মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করতে বিসিএস কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান



প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নবীন বিসিএস কর্মকর্তাদের দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশবাসীর ভাগ্যের পরিবর্তনে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আমি নবীন অফিসারদের দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ব হয়ে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনে কাজ করার আহবান জানাচ্ছি।’

বুধবার সকালে বিসিএস প্রশাসন একাডেমিতে ১২৪তম, ১২৫ তম এবং ১২৬তম আইন ও প্রশাসন প্রশিক্ষণ কোর্সসমূহের সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা সবাইকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন,পাকিস্তান আমলে কোনো বাঙালি একমাত্র কর্ণেল ছাড়া সচিব, জেনারেল ও মেজর জেনারেল হতে পারতো না।

তিনি বলেন, ‘এখন আপনাদের (সরকারি কর্মকর্তা) মনে রাখা উচিত দেশ স্বাধীন হওয়ার পর আমরা সব কিছুই হতে পারছি। সে কথা মনে রেখেই সবাইকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের ব্রত নিয়ে কাজ করার আহবান জানাচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রী বিসিএস প্রশাসন একাডেমি মিলানয়তন শাহবাগে অনুষ্ঠিত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত থেকে ৩টি ব্যাচের ১০৩ জন কর্মকর্তার হাতে সনদ তুলে দেন এবং ফটোসেশনে অংশ নেন।

সরকার প্রধান বলেন, আমাদের যারা নবীন অফিসার তাদের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে। তিনি যখন কোন এলাকায় কাজ করেন তখন সেই এলাকার উন্নয়নে বিশাল   ভূমিকা রাখার সুযোগ পান।

প্রধানমন্ত্রী উদাহারণ দেন, কোথাও কাজে নিযুক্ত হলে বিভিন্ন জন বিভিন্ন দেন দরবার নিয়ে আসবে তবে সেদিকে ভ্রুক্ষেপ না করে সঠিক পরিকল্পনানুযায়ী এগুতে হবে। তাহলেই আমরা সঠিকভাবে উন্নতি করতে পারবো। আমি চাই আমাদের নবীন অফিসাররা সেভাবেই ব্যবস্থা নিবেন।

কারণ, দেশের মানুষের কল্যাণ করার জন্যই বাপ-মা-ভাই হারিয়ে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন এবং জাতির পিতা যে ভাগ্যহত মানুষদের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন তাদের মুখে তিনি হাসি ফোটাবেন-এটাই তাঁর লক্ষ্য।

সরকার প্রধান স্মরণ করেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে জাতির পিতাকে নৃশংসভাবে হত্যার পর ’৮১ সালে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হবার পর প্রবাস জীবন কাটাতে বাধ্য হওয়া অবস্থা থেকে একরকম জোর করে দেশে ফিরে সমগ্র বাংলাদেশ তিনি চষে বেড়িয়েছেন। আর দেখেছেন হাড্ডিসার, কঙ্কালসার মানুষের সারি, পায়ে ন্যূনতম স্যান্ডেলটা নেই, ছিন্ন বস্ত্রের মানুষ।

তিনি বলেন, আমি দেখেছি আমার মা-বোনরা এক টুকরো কাপড়ের অর্ধেক শুকাচ্ছে অর্ধেক পরে আছে। প্রতি বছর মঙ্গা লেগে থাকতো আমরা ছুটে গেছি, লঙ্গরখানা খুলেছি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি, সরকার কি করছে সেদিকে দেখিনি। আমরা আমাদের দলের পক্ষ থেকে সবসময় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি।

শেখ হাসিনা বলেন, কাজেই আজকের নবীন কর্মকর্তারা যখন বিভিন্ন এলাকায় কাজ করতে যাবেন তখন এই বিষয়টার দিকেই লক্ষ্য রাখবেন যে, মানুষের জন্য কতটুকু করতে পারলেন, সেখানেই তৃপ্ত। যতটুকু দিয়ে আসতে পারবেন সেটাই মানুষ মনে রাখবে।

প্রধানমন্ত্রী ১৯৭২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দেয়া জাতির পিতার ভাষণের চুম্বকাংশ তুলে ধরে প্রশাসনের নবীন কর্মকর্তাদের আরো জনসেবায় নিবেদিত প্রাণ হবার পরামর্শ দেন।

শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা বলেছিলেন- সরকারি কর্মচারি ভাইয়েরা আপনাদের জনগণের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করতে হবে এবং জাতীয় স্বার্থকে সবকিছুর উর্ধেব স্থান দিতে হবে। 

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এখন থেকে অতীতের আমলাতান্ত্রিক মনোভাব পরিবর্তন করে নিজেদেরকে জনগণের খাদেম বলে বিবেচনা করতে হবে। অর্থাৎ জনগণের সেবক হিসেবেই নিজেদেরকে আত্মনিয়োগ করতে হবে। আমি চাই জনগণের সেবা করে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে এবং উন্নত করতে হবে।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কে এম আলী আজম এবং একাডেমির রেক্টর (সচিব) মোমিনুর রশিদ আমিন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। ১২৪, ১২৫ ও ১২৬তম ব্যাচে শীর্ষস্থান অর্জন করে রেক্টরস পদক লাভকারি তানিয়া তাবাসসুম, মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী ও ফারহানা নাসরিন অনুষ্ঠানে নিজস্ব অনুভূতি ব্যক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রীর এই বিসিএস প্রশাসন একাডেমিতে দেয়া ভাষণের একটি সংকলণের মোড়কও উন্মোচন করেন।

বিসিএস প্রশিক্ষণ একাডেমির কর্মকাণ্ডের ওপর অনুষ্ঠানে একটি প্রামাণ্যচিত্রও প্রদর্শন করা হয়।

নকল ডিজাইনে তৈরি টাইগারদের বিশ্বকাপ জার্সি (ভিডিও)

নকল ডিজাইনে তৈরি টাইগারদের বিশ্বকাপ জার্সি (ভিডিও)




 খেলা পাগল সমর্থকদের কাছে নিজের দেশ, ক্লাব কিংবা প্রিয় খেলোয়াড়ের জার্সি মানেই বিশেষ কিছু। যার ফলে বিশ্ব ক্রীড়ায় খেলোয়াড়দের জার্সির প্রচুর চাহিদাও দেখা যায়।

২০২২ অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের জার্সি নিয়েও এবার আলোচনা ছিল তুঙ্গে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এক ভিডিও প্রকাশ করে টাইগারদের বিশ্বকাপ জার্সি অবমুক্ত করে। যেখানে তারা জানায়, এবারের জার্সিটি বাংলাদেশের ঐতিহ্য সুন্দরবন, রয়েল বেঙ্গল টাইগার এবং জামদানির কথা মাথায় রেখে বানানো হয়েছে।

তবে জার্সি উন্মোচনের সপ্তাহ না পেরোতেই জানা গেছে, এই জার্সি বানাতে কোনো চিন্তা-ভাবনাই খরচ করেনি কেউই। বরং অনলাইনে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের একটি ছবিকে নামিয়ে সেটা জার্সির মধ্যে বসিয়ে তৈরি করা হয়েছে এবারের বিশ্বকাপ জার্সি। অর্থাৎ, টাইগারদের বিশ্বকাপ জার্সির ডিজাইনটি চুরি করে করা বলে অভিযোগ উঠছে।

ইতোমধ্যে সেই ছবিটাও প্রকাশ পেয়েছে। ক্রিকসার্কেল নামক ক্রীড়া পেইজ বাংলাদেশের জার্সি এবং বাঘের সেই ডিজাইন তুলে ধরেছে। সেখানে বাংলাদেশের জার্সির ডিজাইন চুরির বিষয়েও অভিযোগ তুলেছে তারা। এই ডিজাইনটি ২০১৫ সালে পিন্টারেস্ট ওয়েবসাইটে প্রথম আপ করা হয়। আর বিসিবির জার্সি তৈরির কোম্পানিটি পিন্টারেস্ট থেকে সেই ছবিটি নামিয়ে বসিয়ে দেয় জার্সির গায়ে।

সেখানে তারা লিখেছে, ‘ক্রীড়ামোদিরা সবসময় জার্সির বিষয়টি নিয়ে সচেতন থাকে, এটা তাদের কাছে আবেগের মতো। একটি জার্সি তৈরির কোম্পানি বাংলাদেশি ক্রিকেট ভক্তদের এই আবেগ নিয়ে খেলা করছে। তারা সদ্যই ডিজাইন চুরি করেছে।

বাংলাদেশের ২০২২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জার্সিটির ডিজাইনটি সেই চুরির উদাহরণ। মানুষ যদিও শুরুতে জার্সিটি খুবই পছন্দ করেছে। তারা এর ডিজাইন এবং রঙ পছন্দ করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং মিডিয়াও বিষয়টি তুলে ধরেছে।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অরিজিনাল ডিজাইন দেখে মানুষের মতামত বদলে গেছে। জার্সি তৈরিকৃত প্রতিষ্ঠানটি বিসিবি, মিডিয়া এবং ভক্তদের বোকা বানিয়েছে।’

বাংলাদেশের বিশ্বকাপ জার্সি উন্মোচনের সেই ভিডিও: